মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান এবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক হুমকি এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারেই লারিজানি এ কথা জানান।
গত ২৬ অক্টোবর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় তিন দফা জঙ্গি বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ইসরায়েলে ইরান প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক সপ্তাহ পর ইসরায়েল ওই হামলা চালিয়েছিল।
ইসরায়েলের সেই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার আগেই করেছিল ইরান। এবার তারা সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে। তবে ইরান ঠিক কী প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি লারিজানি।
পরিস্থিতির পটভূমি
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষ বহুদিনের। তবে সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বোমা হামলা এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর রকেট আক্রমণে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ইরান বরাবরই ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের সমর্থক।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে "মানবাধিকার লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা এই আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইরানের প্রস্তুতি
সামরিক প্রস্তুতি:
- ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) সীমান্ত অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিত্রদের সক্রিয়তা:
- ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলের দিকে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
- ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা ইসরায়েলবিরোধী তৎপরতা বাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইরানের হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ইসরায়েল ইতোমধ্যে তাদের সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণের জন্য সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
- যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো: ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত হলে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- জাতিসংঘ: জাতিসংঘ এই উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্ভাব্য ফলাফল
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এতে আঞ্চলিক সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে, নাকি নতুন একটি যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

0 Comments